
সৌভিক পোদ্দার-ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী দফায় দফায় হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় স্বতন্ত্র কাপ পিরিচ প্রতীকের ২ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও যশোরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব বিজয়ী হন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান পরাজিত হন। ফলাফল প্রকাশের পর গভীর রাত থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শুক্রবার সকাল থেকেই ওই আসনের নির্বাচনি এলাকা কোলা, জামাল, নিয়ামতপুর, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন এবং কালীগঞ্জ শহরে দফায় দফায় হামলা শুরু হয়।
বেলা ১১টার দিকে ধানের শীষের সমর্থকরা কালীগঞ্জ শহরের থানা রোডে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করে। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় হামলায় প্রায় ২৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক এবং ২ জন ধানের শীষের সমর্থক জখম হন। আহতদের মধ্যে সাবেক বহিষ্কৃত পৌর বিএনপির নেতা জবেদ আলী, ছাত্রদল নেতা ইভন, খোকন ও মোশারেফ শেখসহ একাধিক ব্যক্তিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মোশারেফ শেখ বলেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক। ধানের শীষের কর্মীরা অন্যায়ভাবে তাকে আহত করেছে।
এসব হামলার ঘটনা নিয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ তার প্রধান নির্বাচনি অফিসের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, অন্যায়ভাবে তার নির্বাচনি অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কর্মী-সমর্থকদের কুপিয়ে জখম করেছে ধানের শীষের সমর্থকরা। তিনি প্রশাসনের নির্লিপ্ততার অভিযোগ তুলে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও থানা পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, যার কারণে এ আসনের বিভিন্ন এলাকায় তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, কে বা কারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুর করেছে, তা তার জানা নেই। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

