
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু আজ সকালে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সকাল ৯টার দিকে তিনি নগরীর টুটপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।
তবে ভোটের দিন সকালেই খুলনা বিএনপিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভোট দেওয়ার আগে তিনি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচি’র মরদেহ দেখতে। সকালে আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনায় মৃত্যু হয় খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি’র।
ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নজরুল ইসলাম মঞ্জু আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আজ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচন। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা শুরু হয়েছে, এটি সেই যাত্রার চূড়ান্ত পর্ব। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, খুলনার পরিবেশ আজ সকাল থেকেই বিষাদের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। সকালে আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রিন্সিপালের আঘাতে আমাদের ত্যাগী নেতা মহিবুজ্জামান কচি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”
তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এবং নির্দেশদাতাদের তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনকে তাদের কর্মীদের আচরণ সংযত করার পরামর্শ দেন তিনি।
নির্বাচনী প্রত্যাশা নিয়ে মঞ্জু বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর জাতি যে পরিবর্তনের আশা করেছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই প্রত্যাশা পূরণের রাজনীতি আমরা করছি। খুলনা বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি এবং প্রতিটি নির্বাচনে এখানে জনগণ ধানের শীষকে বিজয়ী করেছে। আমি আশাবাদী, ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন এবং আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের হাত ধরে জাতি আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখছে, তা বাস্তবায়িত হবে। আমরা চাই না আর কোনো কর্মী আঘাতে মৃত্যুবরণ করুক। কোথাও কোনো দুঃসংবাদ আসুক আমরা তা চাই না।”
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানান এই বিএনপি নেতা। কচি’র মৃত্যুতে নির্বাচনী পরিবেশে সাময়িক উত্তেজনা বিরাজ করলেও ভোটারদের কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

