
নিজস্ব প্রতিনিধি :
ঢাকা-১৮ আসন এখন দেশের রাজনীতির অন্যতম আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, জনমনে প্রশ্ন একটাই—কে হচ্ছেন উত্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের কান্ডারি? বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আসনে লড়াইয়ের ময়দানে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ও তরুণ তুর্কি থাকলেও, মূল লড়াইটি দ্বিমুখী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
🗳️ লড়াইয়ের ময়দানে যারা আছেন:
এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন একঝাঁক পরিচিত মুখ:
১. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী।
২. আরিফুল ইসলাম: এনসিপি ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসৈনিক।
৩. মহিউদ্দিন রনি: জুলাই বিপ্লবের লড়াকু ছাত্রনেতা।
৪. মাহমুদুর রহমান মান্না: নাগরিক ঐক্যের শীর্ষ নেতা।
৫. আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) মনোনীত প্রার্থী।
🔍 রাজনৈতিক সমীকরণ ও মূল দ্বৈরথ:
যদিও প্রার্থীর তালিকা দীর্ঘ, তবে মাঠপর্যায়ের ভোটারদের বিশ্লেষণ ও বর্তমান হাওয়া বলছে—মূল লড়াই হবে বিএনপির অভিজ্ঞ নেতা এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম-এর মধ্যে।
📈 কেন এগিয়ে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটারদের মতে, বেশ কিছু কারণে জাহাঙ্গীর হোসেন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন:
✅ দলীয় ভিত্তি: বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে এই আসনে তার রয়েছে বিশাল ও সুসংগঠিত ভোটব্যাংক।
✅ অভিজ্ঞতা: রাজপথের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তাকে ভোটারদের মাঝে বিশ্বস্ত করে তুলেছে।
✅ জনসংযোগ: এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে তার নিবিড় যোগাযোগ নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
🔥 চ্যালেঞ্জের মুখে তরুণ নেতৃত্ব:
অন্যদিকে, জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে আরিফুল ইসলামের মতো তরুণ নেতাদের প্রতি জনমনে এক ধরণের আবেগ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার একটি অংশ পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কাঠামো এবং বড় দলের সাংগঠনিক শক্তির সামনে এই নতুন শক্তি কতটা জয়ী হতে পারবে, সেটাই দেখার বিষয়।
শেষ কথা:
নাগরিক ঐক্যর মান্না কিংবা চরমোনাই পীরের প্রার্থীর অল্প হলেও নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে, কিন্তু জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি মুলত বিএনপি ও জোট প্রার্থীর হাতেই থাকছে। ভোটাররা কি অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখবেন, নাকি নতুন বিপ্লবের পক্ষে রায় দেবেন?
আপনার কী মনে হয়? ঢাকা-১৮ আসনের আগামীর নেতা হিসেবে কাকে দেখতে চান? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।

