
নিজস্ব প্রতিনিধি :
ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে নির্বাচনকে প্রভাবিত ও কলুষিত করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, জামাত ইসলামের নারী ও পুরুষ কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং ভোটারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
তিনি জানান, গত ২১ জানুয়ারি মধ্যপীরেরবাগ এলাকায় জামাত ইসলামের কয়েকজন নারী কর্মী বিভিন্ন বাসায় গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের সময় স্থানীয় জনগণ তাদের আটক করে। পরে কাফরুল থানা জামাতের আমির ঘটনাস্থলে এসে ক্ষমা প্রার্থনা করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এর কিছু সময় পর প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন শিবির কর্মী ঘটনাস্থলে এসে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন বিএনপি কর্মী আহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন,
“জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় তথ্য এবং বিকাশ নম্বর কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হচ্ছে—তা অত্যন্ত সন্দেহজনক। এই কর্মকাণ্ডের পেছনে ভোট জালিয়াতি কিংবা অর্থনৈতিক প্রলোভনের মতো গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামাত-শিবিরের ক্যাডার বাহিনী সম্প্রতি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে, যা এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি একে সরাসরি নির্বাচনী পরিবেশকে ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, শুধু ঢাকা-১৫ নয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সারা দেশের বিভিন্ন আসনেই ঘটছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে জামাত-শিবিরের এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

