
মো: মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনার রূপসা নদীতে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর খুলনা জিলা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রাফির (১০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রূপসা খেয়াঘাট সংলগ্ন নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা।
নিহত রাফি রূপসা স্ট্যান্ড রোড এলাকার ডা. আলতাফ আলী লেনের অ্যাডভোকেট শাহাজাহানের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. রফিক শেখের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার আছরের নামাজ পড়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল রাফি। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। ওইদিন এশার নামাজের পর থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয় এবং আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে সন্ধান চালানো হয়। এমনকি ট্রলার নিয়ে রূপসা নদী ও বটিয়াঘাটা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে লবণচরা থানাধীন রেলব্রীজ এলাকার নদীর মাঝখানে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে রাফির পরিবারের সদস্যরা ট্রলার নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। অবশেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রূপসা খেয়াঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ৩০ নং ওয়ার্ড কার্যালয়ের পাশে রাখা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পিতা রফিকুল শেখ ও স্বজনরা।
রাফির ছোট মামা আল আমিন জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তারা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেছেন। অবশেষে আজ রূপসা নদীতে তার নিথর দেহ পাওয়া গেল। মরদেহ উদ্ধারের পর নৌ-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রাফির মরদেহ তাদের পৈতৃক নিবাস তেরখাদায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা মো. রেজাউল শেখ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও ৯টা পর্যন্ত তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। শেষ পর্যন্ত আমরাই নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসি।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খুলনা জিলা স্কুলের এই মেধাবী ছাত্রের অকাল মৃত্যুতে সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যেও বিষাদের পরিবেশ বিরাজ করছে।

