
মোঃ আবুল কালাম-নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের কনিকাড়া গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষে বিয়াইয়ের হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কনিকাড়া গাংকুল হাটির বাসিন্দা হারুন মিয়া (৫০) ও তার স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৫)-এর সঙ্গে প্রতিবেশীদের বিরোধ চলে আসছিল। গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে একই গ্রামের ওয়াজকুরুনি (৪৫)-এর স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৩৫) গৃহস্থালি কাজ করার সময় তাদের জায়গায় হেলেনা বেগমের ছাগল ঢুকে পড়লে তিনি বিষয়টি জানাতে গেলে হেলেনা বেগম তার ওপর হামলা করেন মরিয়ম বেগমের চিৎকারে তার স্বামী ওয়াজকুরুনি এগিয়ে এলে তাকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ফেটে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মারামারি থামাতে এগিয়ে আসেন হেলেনা বেগমের বিয়াই শাহেদ মিয়া (৫৫)। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় হেলেনা বেগম, তার স্বামী হারুন মিয়া, ছেলে ও আরও প্রায় ১০ জন শাহেদ মিয়ার ওপর হামলা চালিয়ে তার হাত ভেঙে দেন।
গুরুতর আহত শাহেদ মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার অস্ত্রোপচার চলছে।
এ ঘটনায় আরও আহত হয়েছেন মারামারি থামাতে আসা ৬ মাসের গর্ভবতী নারী বৃষ্টি (২০), তার স্বামী ইমন মিয়া, সুরাইয়া বেগম (৫০) স্বামী হাবিব মিয়া, আমেনা বেগম (৪৫) স্বামী আবদুল অহেদ, তাজু মিয়া (৩৫) ও অলেক মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, তাদের স্টিলের, পাইপ কাঠের লাঠি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, হেলেনা বেগমের বিরুদ্ধে কথা বললে নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে হয়। ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না।
আহত শাহেদ মিয়ার স্ত্রী জানান, ন্যায় বিচারের দাবিতে নবীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। যে কোনো সময় আবার হামলা হতে পারে। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হারুন মিয়া ও তার স্ত্রী হেলেনা বেগমের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গেলে কাউকেই পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

