
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে নানামুখী জালিয়াতির ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার একটি ছোট অসতর্কতা বা এনআইডি তথ্যের যথেচ্ছ ব্যবহার আপনাকে বড় ধরনের আইনি জটিলতা বা ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
যেভাবে ঘটছে জালিয়াতি:
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অপরাধী চক্রগুলো বিভিন্ন ছলে সাধারণ মানুষের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি বা নাম্বার সংগ্রহ করে। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে মালিকের অজান্তেই একাধিক সিম কার্ড উত্তোলন করা হয়। এসব সিম দিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণা, চাঁদাবাজি বা হুমকি দেওয়ার মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এছাড়া অন্যের এনআইডি ব্যবহার করে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলনের মতো ঘটনাও ঘটছে, যার দায় শেষ পর্যন্ত প্রকৃত এনআইডি কার্ডধারীর ওপর গিয়ে পড়ছে।
আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি:
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আপনার এনআইডি দিয়ে হওয়া যেকোনো অপরাধের জন্য প্রাথমিক তদন্তে আপনাকেই দায়ী করা হবে। পুলিশি ঝামেলা থেকে শুরু করে আদালতের চক্কর কাটতে হতে পারে বছরের পর বছর। এছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য চুরির মাধ্যমে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল ওয়ালেট (বিকাশ, নগদ) হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিও প্রবল।
নিরাপদ থাকতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
পরিচয় চুরি বা ‘আইডেন্টিটি থেফট’ থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন:
১. অপ্রয়োজনীয় শেয়ার বন্ধ: কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বা অপরিচিত কাউকে আপনার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি বা নাম্বার দেবেন না। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এনআইডি’র ছবি আপলোড করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
২. ক্রস সাইন বা উদ্দেশ্য লিখে দেওয়া: কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাজে এনআইডি’র ফটোকপি দিতে হলে ছবির ওপর বা খালি জায়গায় নির্দিষ্ট করে লিখে দিন এটি কোন কাজের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন— “শুধুমাত্র অমুক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রযোজ্য”।
৩. ডিজিটাল লিংক থেকে সাবধান: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন অ্যাপ বা সন্দেহজনক লিংকে এনআইডি তথ্য চাওয়া হলে তা প্রদান করবেন না। এগুলো অনেক সময় তথ্য হাতানোর ফাঁদ হতে পারে।
৪. ব্যক্তিগত হেফাজত: এনআইডি কার্ডটি সবসময় ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখুন। হারিয়ে গেলে দেরি না করে নিকটস্থ থানায় জিডি করুন এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল সাইট থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।
জাতীয় পরিচয়পত্র প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় আমানত। তাই এটি ব্যবহারের আগে এবং কাউকে দেওয়ার আগে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনার নাগরিক দায়িত্ব।

