
সুমন খান :
বরিশালের বানারীপাড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ঈদ পূর্ণমিলনী, আলোচনা সভা ও জুলাই শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত কর্মসূচি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়।শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বানারীপাড়া উপজেলা অডিটোরিয়াম কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে এনসিপির নেতাকর্মী, সমর্থক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
বানারীপাড়া উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল্লাহ গালিবের সভাপতিত্বে, অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সংগঠক ও জুলাই আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসাদ বিন রনি।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আবু সাইদ মুসা, রফিকুল ইসলাম কনক, আবু সায়্যেদ ফেরদৌস, বনী আমীন, ফরিদ আহম্মেদ, এস এম বনি আমিন, আবেদ আলী রনি এবং ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রশক্তির অন্যতম সংগঠক ফাহিম আকনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
বক্তারা বলেন, ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, সংযম, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। সমাজে বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে তারা জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের আদর্শকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও গণমুখী বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন পর্ব ছিল বানারীপাড়ার চার জুলাই শহীদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি। স্বজনরা শহীদদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে দেশের জন্য প্রিয়জন হারানোর বেদনা, পাশাপাশি শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যাশা।
আলোচনা শেষে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ পূর্ণমিলনীর মতো সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে জাতীয় চেতনা জাগ্রত করার চেষ্টা করছে এনসিপি। অনুষ্ঠানটি শুধু ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং শহীদদের স্মরণ, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যয়ের বার্তাও তুলে ধরেছে।সব মিলিয়ে বানারীপাড়ায় এনসিপির এই ঈদ পূর্ণমিলনী সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, রাজনৈতিক সচেতনতা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক অনন্য আয়োজনে পরিণত হয়েছে।

