
মোঃ রাজিউর রহমান-ভোলা :
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হাসান বলেছেন, ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু ও অবাধ রাখতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের দুষ্কৃতিকারী বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের যেকোনো মূল্যে আইনের আওতায় আনা হবে। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর ভোট আয়োজনে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে ভোটের গাড়ি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ এক বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। ওই আন্দোলনে আমাদের বহু ছেলে-মেয়ে জীবন উৎসর্গ করেছে। যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তারা জীবন দিয়েছে, সেই আকাঙ্ক্ষাগুলোর সমন্বয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও যতটুকু সম্ভব তা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই প্রস্তাবনাটি প্রথমবারের মতো জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে গণভোটের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ যদি প্রস্তাবিত পরিবর্তনের পক্ষে থাকে, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন, আর পক্ষে না থাকলে ‘না’ ভোট দেবেন। জনগণ কী পরিবর্তন চায় এবং কী চায় না—এই গণভোট তারই প্রতিফলন।
তৌহিদ হাসান বলেন, জনগণ যদি এই পরিবর্তন চায়, তাহলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর। কারণ এই অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যতে ক্ষমতায় থাকবে না। পরবর্তী সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে এবং জনগণের মতামতকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বাধ্য থাকবে। জনগণের প্রদত্ত মতামত উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যেন তার স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত না হয় এবং জনগণ যেন তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়—সেই পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। পরবর্তী সংসদের দায়িত্ব থাকবে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা। কত সময় লাগবে বা কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, তা তাদের বিষয়। তবে জনগণের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বিগত নির্বাচনগুলোতে অনেক মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। বিশেষ করে ৩০ বছরের নিচে বা কাছাকাছি বয়সী বিপুলসংখ্যক নাগরিক দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। সরকার চায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব করছে না। কোন দল কোন প্রার্থী দিচ্ছে, তা জনগণ জানে। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দেবে।
ভোটের গাড়ি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, ভোলা জেলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বেল্লাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা।

