
সাইমন :
বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের পাঁচজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক দলকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা অথবা আন্তর্জাতিক মহলে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় সক্রিয় করা হলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী আইনপ্রণেতারা হলেন—হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির র্যাঙ্কিং মেম্বার গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা, র্যাঙ্কিং মেম্বার সিডনি কামলেগার-ডোভ, কংগ্রেস সদস্য জুলি জনসন এবং টমাস আর সুয়োজি।
আইনপ্রণেতারা উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। তাদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের একটি বৃহৎ ভোটার গোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক বৈধতাকে দুর্বল করবে।
চিঠিতে বলা হয়,
“রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম স্থগিত করা বা ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় চালু করলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
মার্কিন আইনপ্রণেতারা জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে বাংলাদেশের জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে।
এ ছাড়া তারা স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার মতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। সে অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের বিতর্ক তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
চিঠিতে আরও বলা হয়,
“বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন—যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই চিঠি চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।

