
মোঃ তারিকুল ইসলাম খান
স্বামী অসুস্থ হলে স্ত্রী দিনরাত সেবা-যত্ন করেন। ওষুধ খাওয়ানো, খাবার তৈরি, হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ—সবকিছুতেই স্ত্রীকে এক নিবেদিত মানুষের ভূমিকায় দেখা যায়। এটি নিঃসন্দেহে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের পরিচয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানুষ অসুস্থ হওয়ার পরই কি শুধু যত্নের প্রয়োজন?
একজন মানুষ যখন সুস্থ থাকেন, তখন তার প্রতি যত্ন, সম্মান, মানসিক শান্তি ও সঠিক জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অসুস্থতার পর সেবা করা মহান কাজ হলেও, অসুস্থ না হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করা আরও বড় দায়িত্ব।
সংসারে অনেক সময় দেখা যায়, একজন স্বামী সারাদিন কাজের চাপ, অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে করতে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু ঘরে ফিরে যদি তিনি অবহেলা, কটু কথা, অশান্তি কিংবা মানসিক চাপ পান, তাহলে ধীরে ধীরে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, অনিদ্রা কিংবা হৃদরোগের পেছনে পারিবারিক অশান্তিও বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে, একটু আন্তরিকতা, সময়মতো খাবার, হাসিমুখে কথা বলা, বিশ্রামের পরিবেশ তৈরি করা এবং মানসিক সাহচর্য একজন মানুষকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভালোবাসা শুধু অসুস্থতার বিছানায় নয়, প্রতিদিনের আচরণেও প্রকাশ পায়।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা প্রয়োজন—গৃহস্থালির কিছু কাজ হয়তো কাজের মানুষ করতে পারে, কিন্তু আন্তরিকতা, মানসিক সমর্থন ও পারিবারিক ভালোবাসা কখনো টাকার বিনিময়ে কেনা যায় না। দায়িত্ব পালন আর হৃদয়ের টান এক জিনিস নয়। একজন স্বামী বা স্ত্রী দু’জনেরই উচিত একে অপরের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার দিকে খেয়াল রাখা।
শুধু স্ত্রী নয়, স্বামীরও দায়িত্ব রয়েছে স্ত্রীর প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করা। একটি সুখী সংসার কখনো একতরফা দায়িত্বে গড়ে ওঠে না; এটি পারস্পরিক যত্ন, শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে তৈরি হয়।
তাই আসুন, আমরা শুধু অসুস্থতার সময় নয়—সুস্থ সময়েও প্রিয় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই। কারণ, প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নই একটি মানুষকে বড় অসুস্থতা থেকে দূরে রাখতে পারে। ভালোবাসা মানে শুধু সেবা নয়, ভালো রাখার চেষ্টাও।
মোঃ তরিকুল ইসলাম খান

