
মো: মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’-র নেতা মোতালেব শিকদারকে গুলির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) এই ঘটনায় তনিমা তন্বী নামের এক নারীকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি তনিমা তন্বী এনসিপির অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’-র খুলনা জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব। সোমবার রাতে খুলনার টুটপাড়া এলাকা থেকে তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তন্বী নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা দাবি করায় তাকে পুলিশি পাহারায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার ‘মুক্তা হাউজ’ নামক একটি বাসার নিচতলার কক্ষে মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হন। আহত মোতালেব প্রথমে দাবি করেছিলেন যে পথে মোটরসাইকেল আরোহীরা তাকে গুলি করেছে। তবে পুলিশি তদন্তে ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ঘটনাটি রাস্তার বদলে ওই বাসার ভেতরেই ঘটেছে।
পুলিশ ওই কক্ষ থেকে গুলির খোসা, ৫টি মদের বোতল, ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। বাসাটি গত নভেম্বর মাসে তন্বী এবং জনৈক এক ব্যক্তি স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ভাড়া নিয়েছিলেন।
আহত মোতালেব শিকদারের স্ত্রী রহিমা আক্তার ফাহিমা আজ মঙ্গলবার দুপুরে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় তন্বীকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তন্বী ও মোতালেবের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল। গত তিন মাসে তাদের মধ্যে প্রায় ২৭৩ বার কথা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক বা অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে এই গুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বর্তমানে মোতালেব শিকদার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।

