
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় নিজেকে “বড় মাপের সাংবাদিক” পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস, ভূমি অফিস, হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে সোহেল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি সাংবাদিকতার কোনো বৈধ পরিচয় বা স্বীকৃতি না থাকলেও নিয়মিত সাংবাদিক পরিচয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত সোহেল মিরপুর এলাকার কোনো প্রেসক্লাব বা স্বীকৃত সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। অথচ তিনি সরকারি অফিসে গিয়ে নিজেকে প্রভাবশালী সাংবাদিক পরিচয় দেন এবং কখনো কখনো এনজিও প্রতিনিধির ছদ্মবেশে অসহায় শিশুদের সাহায্যের কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি হুমকির সুরে বলেন— “আমি সাংবাদিক, আপনার সম্পর্কে সব জানি, নিউজ করে দেব।” এই ভয় দেখিয়েই অনেককে মানসিক চাপে রেখে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন সে সবসময় নিজেকে বড় সাংবাদিক বলে দাবি করেন কিন্তু অথচ আমার টেবিলে আজ পর্যন্ত একটা পত্রিকা দেখিনি তার তার নামে কোন যোগাযোগ দেখাতে পারেনি। আমি কখনো কখনো অমুক সাংবাদিক তোমার ভাই বন্ধু এইটা বলে সেটা বলে আমাদেরকে বিভ্রান্তি করেন।
বিশেষ করে বিভিন্ন ভূমি অফিসের তহশিলদার, অফিস সহকারী, এমনকি হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও তার নিয়মিত যাতায়াত লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও কোথাও তিনি নিজেকে কখনো এনজিও কর্মকর্তা, কখনো সাংবাদিক পরিচয়ে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন।
সাংবাদিকতার নামে এমন ভয়ভীতি ও প্রতারণা কি প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে না?ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উচিত এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া।এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
ভুয়া পরিচয়ে সাংবাদিকতা ও এনজিওর নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও হুমকি। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন জরুরি।

