
মো: মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনায় পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড ভেঙে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন অভিমুখে ‘লং মার্চ’ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী ঐক্যজোট’। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর শামসুর রহমান রোডে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের অদূরে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া, সীমান্তে অব্যাহত হত্যা এবং বাংলাদেশের ওপর ভারতীয় আধিপত্যবাদী নীতির প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
বিকেল ৪টার দিকে নগরীর রয়্যাল মোড় এলাকা থেকে কয়েক হাজার ছাত্র-জনতার একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি থেকে ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও’, এবং ‘খুনি হাসিনাকে ফেরত দাও’—এমন নানা স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলটি শান্তিধাম মোড় পার হয়ে শামসুর রহমান রোডের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে ব্যাপক পুলিশি বাধার মুখে পড়ে।
ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র্যাব এবং সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে শামসুর রহমান রোডের মুখে ও সিভিল সার্জন অফিসের সামনে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। মিছিলটি সিভিল সার্জন অফিসের সামনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা পুলিশের প্রথম ব্যারিকেডটি ভেঙে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয় এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে হাই কমিশনের নিকটবর্তী একটি কনভেনশন সেন্টারের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তারা মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারলেও রাস্তায় বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা জুলাই বিপ্লবের বিরোধীতাকারী এবং বিভিন্ন হত্যা মামলার আসামিদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, “ভারত যদি প্রকৃত বন্ধু রাষ্ট্র হতে চায়, তবে অবিলম্বে খুনি শেখ হাসিনাসহ সকল অপরাধীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে।”
সমাবেশ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ছাত্রনেতারা ঘোষণা করেন যে, আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে পলাতক সকল ‘সন্ত্রাসীদের’ ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মিছিল সহকারে পুনরায় রয়েল মোড়ে ফিরে আসার মাধ্যমে ওই দিনের কর্মসূচি শেষ করেন। এই কর্মসূচিটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতি জনঅসন্তোষের একটি বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

