
সোলায়মান-স্টাফ রিপোর্টার :
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীজুড়ে ইজারা বহির্ভূতভাবে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অবৈধ বালু ব্যবসার কারণে নদীভাঙন প্রতিদিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, হারাচ্ছে সরকার বিপুল রাজস্ব, আর সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন সাধারণ কৃষক ও তীরবর্তী মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়—পয়লা ইউনিয়নের সিধুনগর ধলেশ্বরী নদীতে লিমন, চর বালজুরি নদীতে জাহিদুল ইসলাম নাহিদ ও বক্কার ঠাকুর, আর কুস্তা এলাকায় সাইফ সানোয়ারসহ একাধিক ব্যক্তি দিনের পর দিন ২৪ ঘণ্টা অবৈধ ড্রেজার চালিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ যেন ড্রেজার ব্যবসায়ীদের অবাধ ‘রাম রাজত্ব’।
বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন—দেখার কেউ নেই
নদীর তীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জানান, লাগামহীন বালু উত্তোলনের কারণে প্রতি বছরই শত শত একর কৃষিজমি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। ভেঙে পড়ছে বাড়িঘর, বসতভিটা। বসতভিটা হারানো একাধিক ভুক্তভোগী বলেন— “আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেলেও দেখার কেউ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাইনি।”
একই অভিযোগ কৃষক কালু, মন্টুসহ অনেকে জানান— “প্রতি বছরই আমাদের জমি নদীতে চলে যায়। সরকার থেকে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জমি হারিয়ে আমরা এখন সর্বস্বান্ত।”
জাতীয় সম্পদ রক্ষার দাবি
জনগণের অভিযোগ, অবৈধ ড্রেজিং বন্ধে প্রশাসনের নীরবতা নদী ও পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি তৈরি করছে। শুধু রাজস্ব ক্ষতি নয়—নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, ভাঙন বাড়ছে, কৃষিজমি কমছে এবং সড়ক ও বসতভিটার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানে সরকারের উচ্চমহলের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

