
জহুরুল ইসলাম জপি-শেরপুর :
ঝিনাইগাতীর সীমান্ত সড়কে ভোরের কুয়াশা তখনো পুরোপুরি কাটেনি। ঠিক এমন সময়েই শুক্রবারের শান্ত সকাল ভেঙে প্রাণের স্রোতে ভেসে যায় পাহাড়ঘেরা সেই পথ। দ্বিতীয় হাফ ম্যারাথনের ডাক পেয়েই জেগে ওঠে রাংটিয়া স্কুল মাঠ। শেরপুর রানার্স কমিউনিটির সুনিপুণ আয়োজন যেন চারদিকেই ছড়িয়ে দেয় রঙিন এক উৎসবের আমেজ
দৌড়ের ছন্দ, মানুষের বন্ধন,
স্বপ্নের ডানায় উড়ার আনন্দে ভরে ওঠে সকালবেলা।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা নারী, পুরুষ আর শিশুসহ প্রায় আট শতাধিক দৌড়প্রেমী সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান সূর্য ওঠার আগেই। চারটি ক্যাটাগরির দৌড়—১, ৫, ১০ আর ২১ কিলোমিটার মনে করিয়ে দেয় নতুন পথ খোঁজার সাহস আর সীমা ভাঙার প্রত্যয়। পাহাড়ি সবুজ, রাস্তার বাঁক, আর প্রভাতের হিমেল হাওয়া যেন প্রতিটি পদক্ষেপে যোগ করে বাড়তি ছন্দ।
সকাল ঠিক ছয়টা। উদ্বোধনী শঙ্খধ্বনি বাজতেই সড়কজুড়ে বাতাস কাঁপিয়ে উঠে দৌড়বিদদের পায়ের শব্দ। যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ, তাই পথজুড়ে শুধুই উৎসাহ, তালি আর উৎসবের রঙ। বিভিন্ন মোড়ে স্থাপিত স্টলগুলো থেকে স্বেচ্ছাসেবকেরা বাড়িয়ে দেন পানি, স্যালাইন, ফল আর হালকা খাবার
পথ যত লম্বা, সহায়তা তত আপন,
ক্লান্ত পায়ে হাসি ফুটায় তাদের মমতার স্পর্শ।
জরুরি চিকিৎসা আর অ্যাম্বুলেন্স সেবা সর্বক্ষণ প্রস্তুত ছিল, যেন প্রতিটি দৌড়বিদ নিরাপদে পৌঁছাতে পারে নিজের লক্ষ্যে। দেশখ্যাত ক্রীড়াবিদ ও অভিযাত্রীরাও যোগ দেন এই প্রাণের মেলায়, যা মুহূর্তগুলোকে করে তোলে আরও উজ্জ্বল।
ঢাকা থেকে আসা অভিজ্ঞ দৌড়বিদ খায়রুল ইসলাম (৫৫) জানান, নিয়মিত দৌড় তাঁর জীবনের শান্তি আর সুস্থতার চাবিকাঠি। তাঁর কথায়
দৌড়াই আমি প্রাণ খুলে,
দৌড়াই নিজেকে আবার নতুন করে তোলার তাগিদে।
১০ কিলোমিটারে দ্বিতীয় স্থান আর ৪৫-প্লাস বিভাগে ২১ কিলোমিটারে শীর্ষস্থান দখল করে তিনি যেন প্রমাণ করে দেন, বয়স নয় ইচ্ছাই মানুষের শক্তির মূল।
এইভাবে সীমান্ত ঘেঁষা ঝিনাইগাতীর রাস্তায় দৌড়, ঢাক, হাসি আর মানুষের মিলনমেলায় গড়ে ওঠে এক অনন্য সকাল
যেখানে দৌড় শুধু প্রতিযোগিতা নয়,
মানুষের মন একসাথে চলার এক নাম।

