
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশে আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত না হলে দেশ এক গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং মিরপুর প্রেসক্লাব, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, “নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি। নির্বাচন বিলম্বিত হলে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়, প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় ভোগে। তাই আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াই জাতীয় স্বার্থে জরুরি।”
🔹 সময়মতো নির্বাচন না হলে যেসব সংকট তৈরি হতে পারে:
১️⃣ রাজনৈতিক অস্থিরতা:
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে, যা সহিংসতা ও সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
২️⃣ অর্থনৈতিক ধসের আশঙ্কা:
বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হবে, রপ্তানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে, এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে, ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে।
৩️⃣ আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি:
যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত বা বিতর্কিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, যা বৈদেশিক সহায়তা ও বাণিজ্য সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
৪️⃣ জনআস্থার সংকট:
দীর্ঘমেয়াদে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাবে, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।
মোঃ শিহাব উদ্দিন আরও বলেন, “গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। নির্বাচন বিলম্বিত করা মানে অনিশ্চয়তার দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়া। তাই জাতীয় স্বার্থে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনকে এখনই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জনগণ আজ পরিবর্তন চায়, স্থিতিশীলতা চায়, আর সেই স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ হলো নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও তাঁর বক্তব্যের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং বলেন — “ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একটি তারিখ নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা।”

