
মোঃ আবু সালেক ভূইয়া-ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :
রোববার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) গাজীপুর প্রেসক্লাবে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন একথা বলেন, তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এই ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ওমরা পালনের সময় ২৩ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১০ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে শওকত হোসেন সরকার জানান, ভিডিওর সেই অংশটি সত্য হলেও এর প্রেক্ষাপট বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।ওই টাকা কোনো প্রকার চাঁদাবাজির নয়; এটি ছিল একটি গাড়ি ক্রয়ের টাকা। ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই জনৈক আফজাল হোসেন আমার ছেলের প্রতিষ্ঠান ‘এম/এস কার সাম্রাজ্য’ থেকে একটি নোয়া স্কয়ার গাড়ি ক্রয় করেন। গাড়িটির দাম ছিল ৪০ লাখ টাকা। তিনি ১০ লাখ টাকার চেক জামানত রেখে গাড়িটি গ্রহণ করেন এবং পরে ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করেন। সেই টাকা আমার কাশিমপুরের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়,” বলেন তিনি।
শওকত হোসেন সরকার অভিযোগ করে বলেন, আফজাল হোসেন পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি বিকৃত করে প্রচার করেছেন এবং এর পেছনে একটি রাজনৈতিক মহলের প্ররোচনা রয়েছে। তিনি জানান, “আফজাল হোসেন নিজেকে এক সময় গাজীপুর মহানগর যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি নিয়মিত আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে অংশ নিতেন, পোষ্টার ও ব্যানারে আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করতেন। জুলাই আন্দোলনের পর তিনি হঠাৎ নিজের পরিচয় পাল্টে বিএনপির ঘরানায় ঢুকে পড়েন। মূলত একজন আওয়ামী ঘরানার সুবিধাবাদী ব্যক্তি এখন বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে চরিত্রহননের এই প্রচারণা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। জুলাই আন্দোলনের পর থেকে একটি মহল বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। আমি সেই ষড়যন্ত্রেরই শিকার।”
গাজীপুর মহানগর বিএনপি সভাপতি জানান, তিনি ইতোমধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আফজাল হোসেনকে আসামি করে মানহানির মামলা করেছেন। তিনি বলেন, “যদি তার সৎ সাহস থাকে, তাহলে তিনি আদালতে এসে আমার মুখোমুখি হোন। আইনই নির্ধারণ করুক কে সত্য আর কে মিথ্যা।”
সংবাদ সম্মেলনে কাশিমপুর জমিদার বাড়ি দখলের অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি পরিষ্কার বক্তব্য দেন। “২০০৫ সালে ওই জমিদার বাড়ির অর্ধেক অংশ আমি বৈধভাবে ক্রয় করি। ২০১২ সালে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ওই বাড়ি দখলের চেষ্টা চালান। আদালতের নির্দেশে সরকার পক্ষকে সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সম্প্রতি আমি ওই সম্পত্তির বি.ডি.এস পর্চাও পেয়েছি। তাই আমার বিরুদ্ধে জমিদার বাড়ি দখলের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।”
তিনি বলেন, “একই ব্যক্তির তৈরি বিভিন্ন সময়ে করা ভিডিও এখন ভিন্নভাবে সম্পাদনা করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, যেন আমাকে চাঁদাবাজ হিসেবে তুলে ধরা যায়। এটি পরিকল্পিত কুৎসা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নোংরা কৌশল।”
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি তিন দশক ধরে গাজীপুরের মানুষের জন্য রাজনীতি করছি। জেল-জুলুম, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন—সব কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু কোনো দিন আদর্শ থেকে সরে আসিনি। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাকে ঘায়েল করতে না পেরে এখন চরিত্রহননের পথে নেমেছে।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে শওকত হোসেন সরকার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি আপনাদের ভাই, গাজীপুরের সন্তান। আমার প্রতি এই অন্যায়ের বিচার আমি গাজীপুরবাসীর হাতে তুলে দিলাম। আপনারা সত্য তুলে ধরুন। ইনশাআল্লাহ সত্যের জয় হবেই।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো কোনো বড় মনের পরিচয় নয়। আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না, শুধু চাই সত্য প্রতিষ্ঠা হোক। জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধারণ করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রাজনীতির ময়দানে থাকতে চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগর বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

