
- রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুই শতাধিক গাছ কর্তন ও জমি দখলের অভিযোগ।
গঙ্গাচড়ায় আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায় দুই শতাধিক ফলজ গাছ কর্তন করে জোরপূর্বক জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ মকবুল হোসেন গং এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অনেক আগে থেকে মামলা মোকদ্দমা চলে আসলেও প্রতিপক্ষ পেশিশক্তি ও ক্ষমতার দাপটে রোপনকৃত গাছ কেটে জমি জবরদখল করছে মর্মে অভিযোগ ভুক্তভোগী মফিজুল ইসলাম (৪৫) এর। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার সিমান্তবর্তী এলাকা গংগাচড়া উপজেলার পশ্চিম নোহালী কচুয়া সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এস এ ১৬নং খতিয়ানের ২৯৮ এবং ২৯৫ দাগে ৪ একর ২৪ শতক জমির মালিক মকবুল হোসেন ও ময়না বিবি। ভোগদখল থাকাকালীন গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ৬৪ সালে ৫২০৫ নং কবলা দলিল মুলে নালিশী ২৯৫ দাগে ৭৫ শতক এবং নালিশী ২৯৮ দাগে ৩১ শতক উভয় দাগে মোট ১ একর ৬ শতক জমি মফিজুল ইসলামের পিতা আব্দুস সোবহানের নিকট বিক্রি করেন। পৈতৃক সুত্রে জমি প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আব্দুস সোবহানের দুই ছেলে মফিজুল ও মোকলেছার রহমান বাসাবাড়ি নির্মানসহ জমি ভোগদখল করে আসলেও প্রতিপক্ষ মজনু মিয়া গং ঘটনার দিন গতকাল মঙ্গলবার ভোর হতে লাঠি, ছোড়া, শাবল, হাতুরী ও দেশিও অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মফিজুল ইসলামের রোপনকৃত ফলজ মালটার ৯০টি গাছ, কলা গাছ ১শত ৫০টি, পেয়ারা গাছ ২৫টি, ইউক্যালেক্টর গাছ ২৬টি বাঁশ ৫ শতাধিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২ শতাধিকের উপরে গাছ কর্তন করে জমি জবরদখল করে। এ সময় ভুক্তভোগী মফিজুল ইসলাম গণমাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, এই জমি নিয়ে প্রতিপক্ষরা আমাকে আসামী করে বিগত ১৬ সালে একটি মামলা দায়ের করে। যাহার নং ল্যান্ড সার্ভে ৫২/২৪। ওই মামলায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমি বিভাগীয় সুপ্রীম কোর্টে একটি ১৪৪/১৪৫ জারী করি। যাহার নং এমআর ৮৯৫/২৫। প্রতিপক্ষরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আজ প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা ক্ষতি সাধন করে তারা আমার জমি জবরদখল করেছে। স্থানীয় সমাধান ও আইন আদালত তারা কিছুই মানে না। পেশিশক্তি ও ক্ষমতার দাপটে তারা এ সব করলো। আমি নিরুপায় হয়ে আইনের সহায়তা কামনা করেছি। আজ তারা যে ক্ষতি করলেন তা আমার জন্য অপুরনীয় ক্ষতি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালত কর্তৃক আদেশ প্রাপ্ত হয়ে জমি দখলে নিয়েছি। প্রতিপক্ষরা যদি জমির প্রকৃত দালিলিক কাগজপত্র দেখাতে পারে তবে জমি ছেড়ে দিবো। এ বিষয়ে গংগাচড়া থানার এস আই আশরাফুল ইসলাম বলেন, থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কালে দেখা যায়, মফিজুল ইসলাম গংরা ওই জমি ৬২ সাল থেকে ভোগদখল করছেন। সে অনুযায়ী প্রতিবেদন আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। জানলাম আজকে প্রতিপক্ষরা আবার গাছ কর্তন করে জমি জবরদখল করেছে। যেহেতু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন সেহেতু আদালতেই বিষয়টি দেখবেন। এ বিষয়ে গংগাচড়া থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি আল এমরান গণমাধ্যমকে জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ থানায় এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

