
নূর আলম সিদ্দিকী-নীলফামারী :
নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবৈধভাবে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক অফিস সহায়ক সুমি আক্তার কল্পনার ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হামলা ও লাঞ্চিতের ঘটনায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতি দিয়েছে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বুধবার (১০/সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে ছয় উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনব্যপি এ কর্মসূচি পালন করেন। এ ঘটনায় নীলফামারীর শিক্ষা প্রশাসনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার কর্মকর্তারা জেলা অফিসে কাজে গেলে অবৈধভাবে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক নিয়োজিত অফিস সহায়ক সুমি আক্তার কল্পনার নির্দেশে বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে হামলার শিকার হন অন্য উপজেলা থেকে আসা কর্মকর্তারা। এছাড়াও প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে অফিস চত্ত্বরে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন কল্পনা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক ভুক্তভোগী মতিয়ার রহমান, কল্পনা জেলা অফিসে দৈনিক মজুরিতে কর্মরত একজন অফিস সহায়ক। তিনি নিয়োগের পর থেকে আমাদের সাথে প্রভাব খাটিয়ে কথা বলে। এবিষয়ে আমাদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনেকবার অবগত করেছি। কিন্তু তিনি কল্পনাকে কিছুই বলেন না।
কর্মচারী আবু তালেব বলেন, গতকাল অন্য উপজেলা থেকে এক কর্মকর্তা কাজে এসেছেন জেলা অফিসে।ওনার সাথেও খারাব আচরণ করে কল্পনা। কিছু বললে নারী কেলেঙ্কারি মামলা দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।এভাবে আর কতদিন? তাই আমরা কর্মবিরতি করছি। কল্পনাকে আমাদের অফিস থেকে বহিষ্কার এবং দোষীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, জেলা অফিসের কর্মকর্তারা শিক্ষক বদলি, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দসহ নানা খাতে অনিয়মে জড়িত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সুমি আক্তার কল্পনা শিক্ষা কর্মকর্তা কুমারেশ গাছির ছত্রছায়ায় থেকে কর্মকর্তাদের হুমকি-ধামকি দেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেন, যার ফলে সাধারণ শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এরপর বিকালে অবৈধভাবে নিয়োজিত কল্পনার অপসারণসহ আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবীতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা। এসময় কর্মচারী আব্দুননুর সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুমারেশ গাছি বলেন, “পূর্বের শিক্ষা কর্মকর্তা নবেছউদ্দিন কার্যালয় চত্বরে টিনশেড ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। সুমি আক্তার কল্পনার নামে আনা অভিযোগটি তদন্তসাপেক্ষে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

