
পরাশর মুখার্জি রিপন-আশাশুনি প্রতিনিধি :
বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী চৈতালি মুখার্জির স্বামী অমিত টিটু চক্রবর্তী বৃহষ্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইহলোক ত্যাগ করেন। অমিত টিটু দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।
গত কয়েক মাস তিনি সাতক্ষীরাতে চৈতালির বাসায় ও হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতাল থেকে টিটুর সর্ব প্রথমে চৈতালির গ্রামের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর বিকেল তিনটার পর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। স্বনামধন্য মিউজিক ডিরেক্টর অমিত টিটু চক্রবর্তীর শেষকৃত্য। অগ্নিশিখার আলোকছটায় ভেসে যায় তাঁর দেহ, রেখে যায় অসংখ্য স্মৃতি, অগণিত সুরের ঝংকার।
শ্মশান প্রাঙ্গণে তখন গভীর নীরবতা। কণ্ঠরুদ্ধ শ্রদ্ধা আর চোখ ভরা অশ্রুজলে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় দাঁড়িয়েছিলেন উদীচী সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, নাট্য সম্পাদক শেখ মনিরুল ইসলাম, জেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি শহিদুর রহমান, লিনেট ফাইন আর্টসের সভাপতি বেতার ও টিভি শিল্পী আবু আফফান রোজবাবু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেখ মোসফিকুর রহমান, স্বরলিপি একাডেমির পরিচালক এস. এম. শহিদুল ইসলাম, বাদ্যযন্ত্রশিল্পী জ্যামি হক, বিশ্বজিৎ সাহা, তুষার মিত্র, ক্রীড়া সংস্থার মীর তায়জুল ইসলাম রিপন, গাজী সাউন্ডের সত্ত্বাধিকারী ও শিল্পায়নের আছাদ, ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান প্রমুখ।
চৈতালি মুখার্জির বাবা, কার্তিক মুখার্জি, মা গীতা রানী মুখার্জি, দাদা সুমন মুখার্জী ও রিপন মুখার্জি, বড় বোন পাবর্তী পাঠক, অর্পিতা পাঠক, অঙ্কিতা পাঠক, মিলন রুদ্র এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য গুণগ্রাহী, শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
শ্রদ্ধার ফুলে ভরে উঠেছিল শ্মশান ভূমি। কেউ ছিলেন নিঃশব্দে প্রার্থনায়, কেউবা অশ্রুসজল চোখে স্মরণ করছিলেন তাঁর সুরের মায়া। যেন প্রতিটি বাতাসে ভেসে আসছিল টিটুর রেখে যাওয়া সুরের ধনী“যাও তুমি শান্তির পথে, তোমার সৃষ্টির আলো জ্বলে থাকবে অনন্তকাল।”

