
সবুজ সরকার,
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার নির্দেশদাতা হওয়া, দুর্নীতি, জমি ও বালুমহাল দখল এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ওবায়দুর রহমান। এসব অভিযোগ উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত আবেদনে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, গত ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পল্লবী থানাধীন উত্তর কালশীর আলীনগরে অবস্থিত ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার-২’-এর ডি-২ নম্বর ফ্ল্যাটে অবস্থানকালে তার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আমিন (দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত পুলিশের সাবেক এসআই), মাসুম বিল্লাহ ও মোক্তাসিম বিল্লাহ লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালান।
তিনি জানান, হামলার শব্দ শুনে তার মা ও ছোট বোন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং হামলাকারীদের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বলেও দাবি করেন।
আবেদনে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, হামলার নেপথ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন তার ড্রাইভার ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তিনি এমপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জমি ও বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং নারীসংক্রান্ত বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী।
এছাড়া লিখিত আবেদনে তিনি আরও দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও বিদ্যমান।
নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে ওবায়দুর রহমান হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ।

