
মোঃ তাইনুল ইসলাম:
পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর ওপর বহুল প্রত্যাশিত বগা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছোট্ট শিশু আবিরার “বগা সেতু চাই” দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা মাঠে সম্ভাব্য সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শহরের মূল অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করতেই বগা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সেতুটি নির্মিত হলে কৃষিপণ্য, কুটির শিল্পের পণ্য ও স্থানীয় উৎপাদিত সামগ্রী সহজেই বড় বাজারে পৌঁছাতে পারবে। এতে কৃষক ও উদ্যোক্তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং যাতায়াত ব্যয় ও সময় কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, “সেতুটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই করবে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
মন্ত্রী জানান, বগা সেতুর চূড়ান্ত নকশা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলে আগামী মাসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং আগামী বছরের শুরুতেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
পরিদর্শনকালে তিনি সম্ভাব্য সেতু এলাকা, নদীর প্রবাহ ও মাটির গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সেতুটি নির্মিত হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা ফেরি বা নৌকার জন্য অপেক্ষা না করে সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে দ্রুত হাসপাতালে যেতে পারবেন। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা প্রসূতি মায়েদের সংকটময় মুহূর্তে এটি জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করবে।”
তিনি আরও বলেন, ঝড়-তুফান কিংবা রাতের অন্ধকারেও ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত হওয়ায় মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমে আসবে এবং সুষম উন্নয়নের পথ আরও সুদৃঢ় হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউসুফসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

