
মাসুম বিল্লাহ :
ঝিনাইদহ জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। স্বাধীনতার পর এই প্রথম জেলাবাসী পেলেন একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে দেশের নতুন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন কর্তৃক শপথ গ্রহণের পর দপ্তর বণ্টনে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জেলার ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক:এর আগে ঝিনাইদহ থেকে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও তাঁরা মূলত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আব্দুল হাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ সরকারের সময় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান সিদ্দিকীও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তবে আসাদুজ্জামানের মাধ্যমেই ঝিনাইদহ জেলা এই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী পদ পেল।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও পেশাজীবী জীবন:
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ত্রয়োদশ নির্বাচনের ঠিক আগে তিনি সেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।
জন্ম ও শিক্ষা: ১৯৭১ সালে শৈলকুপার বারইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা শেখ মোঃ ইসরাইল হোসেন এবং মা বেগম রোকেয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেন।
পেশা: ১৯৯৫ সালে আইনজীবী হিসেবে যাত্রা শুরু করে তিনি ২০০৫ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পেশাজীবনে তিনি প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের সঙ্গে কাজ করেছেন।
রাজনীতি: ছাত্রজীবনে জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং দলের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শৈলকুপায় আনন্দের বন্যা:আসাদুজ্জামান আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন—এই সংবাদটি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই শৈলকুপায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়। সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রিয় নেতার এই সাফল্যে আনন্দিত। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, এটি কেবল আসাদুজ্জামানের বিজয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলিত ঝিনাইদহবাসীর এক বিশাল প্রাপ্তি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নতুন আইনমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের পাশাপাশি অবহেলিত ঝিনাইদহের উন্নয়নেও যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবেন।

