
ডেভিড সাহা,
রুমা উপজেলা রামদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে জোর জবদস্তি করে বের করে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এবং উক্ত বিদ্যালয়ের সরকারি সরঞ্জাম নিজ বাড়িতে নিয়ে বছরের পর ব্যবহার, শিক্ষকদের বিভিন্ন কুট কৌশলে জিম্মি করে বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপষ্ঠিতি, নিজে না এসে স্ত্রী, ভাইকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সরকারি নীতি মালা বহির্ভুতভাবে দায়িত্ব পালনের নামে অজুহাত সৃষ্টি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে অসদাচরনসহ একটি বিষয়কে নানাভাবে কায়দা বের করে কর্মস্থলে না গিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনে গিয়ে অহেতুক বিরক্ত করে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা সহ নানা অভিযোগে নেরওয়ান ত্রিপুরার বিষয়ে অতিষ্ঠ অভিভাবক ও শিক্ষকমন্ডলি। এ ছাড়া নিজের কৃতকর্মের দায়ে অফিসিয়ালি বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠনকে দিয়ে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে বেতন ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে দপ্তরি নেরওয়ানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তার নিয়োগের সময় দাখিল করা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। অষ্টম শ্রেনীর সনদ জালিয়াতি করে নিয়োগ পাওয়ার মত গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে তার নিয়োগ বাতিল করার জোর জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরা বিভিন্ন কাজে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেন। যা তার নিজ দায়িত্ব। বলা হলেও তার তোয়াক্কা করেননা। গত ১০ আগস্ট শ্রেণি কার্যক্রম চলার সময় তার স্ত্রীসহ কয়েকজন নারী বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঁচ শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষক দের অনুমতি বিহীন বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের দায়িত্বের বাইরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমেও তিনি হস্তক্ষেপ করেন। এমনকি নিজের পরিবর্তে স্ত্রীকে বিদ্যালয়ে পাঠানোর অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে দাবি অভিভাবকদের।
এদিকে বিদ্যালয়ের সরকারি সাউন্ড সিস্টেম, ব্যাটারি, সোলার প্যানেল, পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যক্তিগত বাসায় নিয়ে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েক জন ব্যাক্তি জানান সে নতুন মাল্টিমিডিয়া টিভি নিজের বাসায় রেখে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, নিজের পুরোনো ও নষ্ট একটি টেলিভিশন (৩২ ইঞ্চি হাইফাই এলইডি( টিভি) বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তগত করে দিয়ে বিদ্যালয়ের ৪২ ইঞ্চি মাল্টিমিডিয়া (টিভি ) নিজ বাসায় রেখে দেওয়ার । ও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর লিখিত অফিস আদেশ পেলেও তার কর্নপাত করেননি তিনি। অভিযোগের তথ্য কপি অত্র প্রতিবেদকের কাছে পৌঁছেছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং বিদ্যালয়ে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টিতে দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরার এহেন কর্মকান্ডে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শ্রেনী কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক মন্ডলির পক্ষ থেকে জানা গেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে কথা বলায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছেন। অভিযুক্ত নেরওয়ান ত্রিপুরার
নিয়োগ সনদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় অভিভাবকেরা। এতদিন বিভিন্ন চাপে তারা সাহস করেননি।
নিয়োগ শর্তে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন রেখে বলিবাজার স্থানীয় ক্যাথলিক মিশন থেকে(সেন্ট জেভিয়ার জুনিয়র হাই স্কুল) সনদ জালিয়াতি করে নিয়ে অষ্টম শ্রেনী পাশের সনদ জমা দেন।। স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, তিনি অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে দপ্তরি পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের দাবি নেরোয়ান কোন ক্লাসেই পড়েননি। তিনি ২০০১ সালে ইন্ডিয়া থেকে শরনার্থী হিসেবে এ দেশে এ আসেন। তার বাবাকে শরনার্থী হিসেবে পুর্নবাসন করে দেওয়া হয়েছিল। তাই নিয়োগসংক্রান্ত সব নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ আরও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিগত সময়ে তার নিয়োগের পর থেকে বিদ্যালয়ের এহেন কর্মকান্ড সচেতন মহলকে বিস্মিত করেছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিভাবে একজন দপ্তরির কাছে জিম্মি হয়ে এতসব অনিয়ম হতে পারে। তারা প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রুমা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একপর্যায়ে “আমি লেখা-পড়া জানি না” বলে জানান সত্যটা স্বীকার করেন।এবং পরবর্তীতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এড়িয়ে যান।
এখন রুমা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

