প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১৬, ২০২৬, ৫:০০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ১৫, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
রুমায় রামদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরির বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ

ডেভিড সাহা :
রুমা উপজেলা রামদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে জোর জবরদস্তি করে বের করে নিয়ে যাওয়ার ও গুরুতর অভিযোগ করেন তার বিরুদ্ধে স্থানীয় অভিভাবকরা।
এবং উক্ত বিদ্যালয়ের সরকারি সরঞ্জাম নিজ বাড়িতে নিয়ে বছরের পর বছর ব্যবহার করেন।শিক্ষকদের বিভিন্ন কুট কৌশলে বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপষ্ঠিতি, নিজে না এসে তার স্ত্রী,ও ভাইকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সরকারি নীতি মালা বহির্ভুতভাবে দায়িত্ব পালনের নামে অজুহাত উঠেছে ও অভিভাবকদের সাথে অসদাচরনসহ একটি বিষয়কে নানাভাবে কায়দা বের করে কর্মস্থলে না গিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনে গিয়ে অহেতুক বিরক্ত করে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা সহ নানা অভিযোগে নেরওয়ান ত্রিপুরার বিষয়ে অতিষ্ঠ অভিভাবক ও শিক্ষকমন্ডলি, স্থানীয় বাসিন্দারা।
একই সঙ্গে তার নিয়োগের সময় দাখিল করা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। অষ্টম শ্রেনীর সনদ কি আসলে সঠিক কি না? তা স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরা বিভিন্ন কাজে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেন। যা তার নিজ দায়িত্ব। বলা হলেও তার তোয়াক্কা করেননা।
গত ১০ আগস্ট শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালিন তার স্ত্রীসহ কয়েকজন নারী বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঁচ শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষক দের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয় থেকে বের করে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের দায়িত্বের বাইরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে নিজের পরিবর্তে তার স্ত্রীকে বিদ্যালয়ে পাঠানোর অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে দাবি অভিভাবকদের।এদিকে বিদ্যালয়ের সরকারি সাউন্ড সিস্টেম, ব্যাটারি, সোলার প্যানেল, পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যক্তিগত বাসায় নিয়ে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েক জন ব্যাক্তি জানান সে নতুন মাল্টিমিডিয়া টিভি তার নিজের বাসায় রেখে ব্যবহারের অভিযোগ ও রয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, নিজের পুরোনো নষ্ট একটি টেলিভিশন (৩২ ইঞ্চি হাইফাই এলইডি( টিভি) বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তগত করে দিয়ে বিদ্যালয়ের ৪২ ইঞ্চি মাল্টিমিডিয়া (মনিটর ) নিজ বাসায় রেখে দেওয়ারও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর লিখিত অফিস আদেশ পেলেও তার কর্নপাত করেননি । অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং বিদ্যালয়ে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টিতে দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরার এহেন কর্মকান্ডে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শ্রেনী কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক মন্ডলির পক্ষ থেকে জানা গেছে। এমতাবস্হায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযুক্ত নেরওয়ান ত্রিপুরার নিয়োগ সনদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় অভিভাবকেরা। এতদিন বিভিন্ন চাপে তারা সাহস করেননি।
তাদের দাবি নেরোয়ান কোন পড়াশোনা করেন নি। তাই নিয়োগসংক্রান্ত সব নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ আরও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিগত সময়ে তার নিয়োগের পর থেকে বিদ্যালয়ের এহেন কর্মকান্ড সচেতন মহলকে বিস্মিত করেছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিভাবে একজন দপ্তরির কাছে জিম্মি হয়ে এতসব অনিয়ম হতে পারে। তারা প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রুমা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দপ্তরি নেরওয়ান ত্রিপুরার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একপর্যায়ে “আমি লেখা-পড়া জানি না” বলে জানান সত্যটা স্বীকার করেন।এবং পরবর্তীতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এড়িয়ে যান।এখন রুমা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬