
রেজাউল করিম মালিক,
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সুখদহ নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (৯ই আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শ্যামপুর ও পোড়াপাইকর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন, বালু উত্তোলনের পাইপ, ড্রামসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। তবে অভিযান কালে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জোরগাছা ইউনিয়নের চরপাড়া-বাঙালি ব্রিজসংলগ্ন সুখদহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এতে নদীর তীর, পরিবেশ ও আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি সোনাতলা সংবাদ এর গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে সোনাতলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে শ্যামপুর এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন, বালু উত্তোলনের পাইপ এবং ড্রামসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়। এছাড়া পোড়াপাইকর এলাকায়ও কয়েকটি পাইপ ধ্বংস করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। সেখানে আরও দুটি মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে।
সোনাতলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া বলেন, সরকারি বিধি-বিধান অমান্য করে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও পরিবেশের ক্ষতি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুখদহ নদীর বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার কয়েকটি অবৈধ বালু উত্তোলনের পয়েন্টে অভিযান চালানো হয়।
প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। নদী রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এদিকে চরপাড়া বাজারে স্থানীয় একটি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রেতাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আইনে ১হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

