
জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ৪ আগস্টের সহিংস ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানান ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী মো. বখতিয়ার ইসলাম এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী মো. নোমান উদ্দীন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অনতিবিলম্বে অভিযুক্তদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে হবে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
২. ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রক্টর মহোদয়কে পদত্যাগ করতে হবে।
৩. সাম্প্রতিক ঘটনায় আহত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ চিকিৎসার সার্বিক ব্যয়ভার বহন এবং তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
৪. সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
স্মারকলিপিতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ পুনরুদ্ধারে চার দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ নেবে এটাই তাদের প্রত্যাশা।

