
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জুয়েল
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমাচল বিটের ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্টের প্রায় ১৫০ একর সরকারি বনভূমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ কার্যকর থাকলেও বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। বন বিভাগের একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং প্রশাসনের অভিযানের পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, স্বত্ব মামলা নং-১৮৫/২০২২ কুলাউড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত সংশ্লিষ্ট জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এরপরও বন বিভাগের অভিযোগ, আদালতের আদেশ অমান্য করে বনভূমিতে গাছ কাটা, জমি দখল এবং সুপারি চারা রোপণের কার্যক্রম চলছে।
অভিযোগের পর সম্প্রতি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তাজা গাছ কাটার চিহ্ন এবং বনভূমিতে নতুন করে সুপারি চারা লাগানোর আলামত পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়নি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বরমচাল বিট কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মো. আবদুল ওয়াদুদ বনভূমি রক্ষায় একাধিকবার কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জিডিতে বন কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস বলেন, “সরেজমিনে বন উজাড়ের আলামত পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সরকারি জমিতে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা বন কর্মকর্তা (রেঞ্জ কর্মকর্তা) রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, “জনবল ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে দায়িত্ব পালনে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তারপরও সরকারি বনভূমি রক্ষায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, “আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে কেউ সরকারি বনভূমি দখল বা গাছ কাটতে পারবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, বন বিভাগের নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় কুলাউড়ার এই সংরক্ষিত বনভূমি পরিবেশগতভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

