
ওসুমন খান:
গ্রাহকদের নির্বিঘ্ন ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়ে দালালবিরোধী বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি দালালচক্রের ৫ সদস্যকে কারাদণ্ড এবং আরও ৩ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (তারিখ প্রযোজ্য) বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান এ অভিযান পরিচালনা করেন।অভিযানের সময় বিআরটিএ কার্যালয় চত্বরে অবস্থান করে বিভিন্ন সেবা দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে কয়েকজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতারক চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।আদালতে আটক ব্যক্তিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি প্রদান করলে ৫ জনকে প্রত্যেকের ২ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ জনকে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বাবুল হোসেন (৩৮), পিতা: মৃত হারুনুর রশিদ।
মো. কাওসার আলী (৩০), পিতা: মো. আব্দুল মোতালিব। আব্দুল্লাহ আল রাজীব (৪০), পিতা: মাস্টার সুলতান।আব্দুল মান্নান (৪৬), পিতা: মো. শেরজন আলী।মো. শামীম (৩৪), পিতা: মৃত নূর মোহাম্মদ।বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান বলেন, একটি অসাধু দালালচক্র বিআরটিএতে আসা গ্রাহকদের দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা টাকা ও কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিআরটিএতে দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে প্রশাসন, ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, প্রকৃত সেবাগ্রহীতারা যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর শরণাপন্ন না হয়ে সরাসরি সরকারি সেবা নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই দালাল ও প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে দালালের খপ্পরে না পড়ে নির্ধারিত নিয়মে সরাসরি আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি দালালের মাধ্যমে সেবা গ্রহণের প্রলোভন দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

