বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে চীন অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। উৎপাদন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে চীন আজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৃহৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতার মাধ্যমে দেশটি বিশ্বের বহু উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং-এর নেতৃত্বে চীন বৈশ্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, সংযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম, শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের নেতৃত্বে চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ বিবেচনায় বাংলাদেশ চীনের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ কারণে বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিল্প, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, রেলপথ, সেতু, বন্দর, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি আধুনিকায়ন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন খাতে চীনের বিনিয়োগ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীনের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক নগরায়ণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চীনের বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে। বাংলাদেশও সেই সম্ভাবনার বাইরে নয়।
মোঃ শিহাব উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং উন্নয়নমুখী অর্থনীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চীনের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা গেলে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চীনের মতো একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যদি উৎপাদনশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উচ্চপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর সংশ্লিষ্ট শিল্প, স্মার্ট সিটি, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও গভীর ও কার্যকর করতে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক, শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এতে উভয় দেশই লাভবান হবে।
মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, চীনের উন্নত প্রযুক্তি, আর্থিক সক্ষমতা এবং বৃহৎ শিল্প অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় নতুন গতি এনে দিতে পারে। অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক শিল্পায়ন, পরিবহন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।