
মুহিবুর রহমান খান
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালঝোড় ঘাট এলাকায় ভারতীয় গরু চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুটি ভারতীয় গরুসহ তিন চিহ্নিত চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শালঝোড় ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে আটটি গরুসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—আশরাফুল আলম (৩৭), আল আমিন (৩০), নুর নবী (২৫) ও সবুজ (২১)। তাদের বাড়ি শালঝোড় ও ধলডাঙ্গা এলাকায়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, আটক আটটি গরুর মধ্যে দুটি কালজানি ঘাট এলাকার কাজিয়ার চর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। বাকি ছয়টি গরুর বৈধ মালিকানা নিশ্চিত হওয়ায় সেগুলো মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গরু ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা না করতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের কাছ থেকে ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন ও সচল ভারতীয় সিম উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা দুটি ভারতীয় গরুর বিষয়ে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, “যাচাই-বাছাই শেষে তিন চিহ্নিত চোরাকারবারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুটি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়েছে।”
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশের অন্যতম রুট শালঝোড় এলাকা। এ কারণে ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সীমান্তে গরু চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

