
আল মুজাহিদ
টানা রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে যশোরের আটটি উপজেলা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। জেলার অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুরসহ ভবদহ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। পানির নিচে চলে গেছে ধানের বীজতলা, বিভিন্ন ধরনের সবজিক্ষেত ও মাছের ঘের। এতে কৃষক ও মৎস্যচাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় দুর্যোগ পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম এবং জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত দুই দিনে যশোরে সর্বোচ্চ ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ইতোমধ্যে ভবদহ অঞ্চলে ২৭ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বন্যার পানিতে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সভায় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, বর্তমানে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে। তবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার জানান, জুন মাসে জেলার অপরাধের চিত্রে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি ও চোরাচালানিদের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, কিশোর গ্যাং ও চোরাচালানবিরোধী তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান জোরদার করা এবং শহরের যানজট ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা।
এ ছাড়া আগামী ১৬ জুলাই রথযাত্রা উৎসব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।
সভায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খানসহ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

