
নিজস্ব প্রতিনিধি :
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলাতে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে। পানিবন্দি লাখো মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যায় বিশুদ্ধ পানির অভাব, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার বিপর্যয় এবং জমে থাকা দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, চর্মরোগ ও টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগের চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরিভিত্তিতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বন্যায় এলাকায় সব ধরনের সুপেয় পানির উৎস তলিয়ে যাওয়াতে দূষিত হয়ে পড়েছে পানি। এই দূষিত পানি রান্নায় ব্যবহার বা পান করে , কিংবা হাত ধোয়ার কাজে লাগায় তখন পানিতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাঁশখালীর যেসব এলাকায় পানি বাহিত রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে বাহারছড়া, খানখানাবাদ, কাথারিয়া, গণ্ডামারা, শেখেরখীল, ছনুয়া, সরল ও পুঁইছড়ি—এই উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর পানিতে তলিয়ে যাওয়া বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। ঐ এলাকায় পানি নামতে শুরু করায় পানিবাহিত রোগের মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিততিতে চরম বিশুদ্ধ পানির সংকট ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা যায় এবং পানিবন্দির কারণে বহু পরিবার এখনো ঘরবাড়ি ও আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় এই সমস্ত অঞ্চলে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে চরমে। দ্রুত এই রোগ সৃষ্টির আগেই ভ্রাম্যমান চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারণা প্রয়োজন।
লেখক: জসিম উদ্দীন মাহমুদ তালুকদার
সংবাদকর্মী ও চিকিৎসক
বাঁশখালী পৌরসভা, ৯ নং ওয়ার্ড।
বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

