
আবুসুফিয়ান, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জ শহরের দরগা রোডে অবস্থিত এলিট টাওয়ারকে ঘিরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, এসপি অফিসের সাবেক স্টেনোটাইপিস্ট খাদেমুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষক হেদায়েত উল্লাহ গং পৌর ইমারত নির্মাণ আইন অমান্য করে ৬ তলার অনুমোদন নিয়ে নকশাবহির্ভূতভাবে ৮ তলা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে পৌর নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আনিসুর রহমান সরেজমিন তদন্ত করে ভবন নির্মাণে সেটব্যাক রুলস অনুসরণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদন দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুলাই ২০২৪ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র ভবনের নকশাবহির্ভূত ৮ম তলা অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি।
পরবর্তীতে একাধিক লিখিত অভিযোগের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পৌর প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দাখিল করা হয়।
সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে সিরাজগঞ্জ পৌর প্রশাসক ভবন মালিকদের ৫ (পাঁচ) কর্মদিবসের মধ্যে এলিট টাওয়ারের নকশাবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ ৮ম তলা অপসারণের নির্দেশ প্রদান করেন।
এখন পৌরবাসীর প্রশ্ন—দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই ভবনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হবে, নাকি আগের নির্দেশগুলোর মতোই কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
উল্লেখ্য, ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) অনুযায়ী অনুমোদনহীন বা নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড, ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড প্রদান করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা, বেআইনি অংশ বা পুরো স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ এবং নির্দেশ অমান্য করলে কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে ভবন ভেঙে অপসারণ করে সেই ব্যয় ভবন মালিকের কাছ থেকে আদায়ের বিধানও রয়েছে। তাই আইন অমান্য করে নির্মিত কোনো অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান।

