
নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজধানী ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু নামধারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানুষকে হয়রানি, মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রকৃত সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনিবন্ধিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রকাশ করছেন। এসব প্রকাশনার মাধ্যমে অনেকের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে মিরপুর-১, মিরপুর-১২ ও দুয়ারীপাড়া এলাকায় এমন কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যারা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তার ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
দুয়ারীপাড়া এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা এস্টেট এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, তারা দীর্ঘ ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বৈধ রয়েছে। তবে তাদের অভিযোগ, কিছু গৃহায়ন দালাল ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগে সাংবাদিক পরিচয়ধারী ইমন ও মীর আলাউদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা গৃহায়ন প্রকল্পের প্লট দখল ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, কিছু ব্যক্তি একাধিক প্লট দখল করে রেখেছেন, যদিও তাদের মালিকানার বৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, সাংবাদিকতার পবিত্র পেশার অপব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, মানহানি বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় অনিবন্ধিত ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

