
স্টাফ রিপোর্টার,
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার বিভাগের সিদ্ধান্তে বিভিন্ন পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার দায়িত্ব পান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. আব্দুল-আল-মামুন কাওসার শেখ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং ভূমি প্রশাসনে নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ৩৮তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ঘোড়াঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করে উন্নয়ন ও সেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, তাঁর দায়িত্বকালে পৌর এলাকায় প্রায় ২৩ দশমিক ৮৩৮ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরু হয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৯ কোটি টাকা। এছাড়া ওসমানপুর বাজারের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও শেড নির্মাণ, বাগেরহাট বাজারে আধুনিক কিচেন মার্কেট নির্মাণ, বিভিন্ন এলাকায় স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং ঘোড়াঘাট বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের কাজও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের আগে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ ১৯ মাসের বেতন বকেয়া ছিল। বর্তমানে নিয়মিত বেতন পরিশোধের পাশাপাশি মোট ৩৪ মাসের বকেয়া ও চলতি বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের বকেয়া কমে বর্তমানে ৭ মাসে নেমে এসেছে বলে পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার পারভেজ বলেন, “দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর বকেয়া ও নিয়মিত বেতন পরিশোধ হওয়ায় সবাই স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।”
চলতি অর্থবছরের জন্য ৫৫ কোটি ৯৪ লাখ ২০০ টাকার বাজেট ঘোষণা করে ঘোড়াঘাট পৌরসভার ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নাগরিক সেবায়ও এসেছে পরিবর্তন। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, আগে জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশান সনদসহ বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমানে অধিকাংশ সেবা এক কার্যদিবসের মধ্যেই দেওয়া হচ্ছে।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, “আমাদের এলাকার বহু বছরের কাঁচা রাস্তা এখন পাকাকরণ হচ্ছে। পাশাপাশি পৌরসভা ও ভূমি অফিসের সেবাও আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।”
অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি ভূমি অফিসে দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই নামজারি (খারিজ) সেবা পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন বহু ভূমি মামলাও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং যানজট নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. আব্দুল-আল-মামুন কাওসার শেখ বলেন, “সরকারের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষ যেন কোনো হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পান, সেটাই আমার প্রধান লক্ষ্য। জনস্বার্থে উন্নয়ন ও সেবার এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।”
স্থানীয় অনেকের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দ্রুত সেবা প্রদান এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে ঘোড়াঘাটে ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁদের আশা, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

