
নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজধানীর উত্তরা আব্দুল্লাহপুর ৯ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত হোটেল রাজমনি আবাসিকের বিরুদ্ধে দেহ ব্যবসা, মাদক সেবন ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটিতে দিনে-রাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
রাত নামলেই জুয়া, অল্প বয়সী তরুণী দিয়ে দেহ ব্যবসা
অভিযোগ রয়েছে, হোটেল রাজমনিতে প্রতি রাতেই বসে জুয়ার আসর। একইসঙ্গে অল্প বয়সী তরুণীদের দিয়ে অবাধে দেহ ব্যবসা চালানো হয়। দিনের বেলায়ও দূরদূরান্ত থেকে আসা গ্রাহকদের জিম্মি করে অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয়
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী বস্তি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা হোটেলটিতে আত্মগোপনে থাকে। তাদের দাবি, পুলিশি তৎপরতা কম থাকায় এখানেই তারা বেশি নিরাপদ বোধ করে।
ভিজিটিং কার্ড বিলি, দর কষাকষিতে অমিল হলেই নির্যাতন
এলাকাবাসী জানান, চক্রের সদস্যরা রাস্তায় রাস্তায় ভিজিটিং কার্ড ছড়িয়ে রাখে। সেই নম্বরে ফোন করলে গ্রাহকদের হোটেলে ডেকে মেয়েদের দেখানো হয়। টাকার অংক নিয়ে বনিবনা না হলে গ্রাহকদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভয়ে মুখ খুলছেন না ভুক্তভোগীরা
নির্যাতনের শিকার হলেও বেশিরভাগ ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতে সাহস পান না। তাদের আশঙ্কা, হোটেল কর্তৃপক্ষ থানা-পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই ব্যবসা চালাচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক লোকলজ্জার ভয়েও অনেকে মুখ বন্ধ রাখেন।
“সন্তানেরা নষ্ট হচ্ছে” — এলাকাবাসীর ক্ষোভ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা রফিক বলেন, “এই হোটেলের কারণে আমাদের ঘরের সন্তানেরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা কার কাছে বিচার চাইবো বুঝতে পারছি না। মাঝে মাঝে রাতে মারামারির শব্দ শুনতে পাই।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তরুণী এনে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায়
গোপন সূত্রের দাবি, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে দালাল চক্রের মাধ্যমে উঠতি বয়সী তরুণীদের গার্মেন্টসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় আনা হয়। পরে তাদের জোর করে দেহ ব্যবসায় লিপ্ত করা হয়। বাংলা ভাষা না জানার কারণে তারা জিম্মি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওসির বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য জানতে সরাসরি থানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পরবর্তী অনুসন্ধান
হোটেল রাজমনির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য এবং সরেজমিন অনুসন্ধান শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

