
কবির হোসেন রাকিব,
লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কমলনগর উপজেলার লুদুয়া বাজার এলাকায় বেড়িবাঁধের সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় কিছু সূত্রে অভিযোগ উঠলেও, প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা এবং স্থানীয় অন্য একটি পক্ষ একে সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও শঙ্কা
স্থানীয় কিছু বাসিন্দার অভিযোগ, লুদুয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধের খুব কাছ থেকে ‘নিশান টেক’ নামের একটি কোম্পানির পক্ষ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এর ফলে বাঁধের নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, কিছুদিন আগে এখানে একটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে কাজের ঠিকাদার শাকায়াত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা নাহিদুল জামান জানান, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
পাল্টা দাবি: “পুরো খবরটিই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন”
তবে এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। করিম নামের এক ব্যক্তি জানান:
”এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বালু উত্তোলনের দাবিটিও অবাস্তব। পুরো নিউজটাই সাজানো এবং মিথ্যা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।”
পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বর্তমানে সেখানে কোনো অবৈধ বালু উত্তোলন বা গভীর নলকূপের অস্তিত্ব নেই। বরং ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সিসি ব্লক (CC Block) দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছেন এবং ভাঙন রোধে সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের নিয়মিত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোনো ধরনের অবৈধ খনন বা বাঁধের ক্ষতি করার মতো দৃশ্য সেখানে চোখে পড়েনি।
উপসংহার
স্থানীয়দের জানমাল রক্ষার এই মেগা প্রকল্প নিয়ে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে চূড়ান্ত স্পষ্টীকরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। একদিকে বাঁধের নিরাপত্তার শঙ্কা, অন্যদিকে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হওয়া জরুরি।

