
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এই বরাদ্দগুলো মূলত বিদ্যালয়ের সংস্কার, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির সজ্জা, বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং বার্ষিক রুটিন মেইনটেন্যান্স বা মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হয়।
২০২৬ সালের সর্বশেষ বাজেট এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান প্রধান বরাদ্দ ও এর নিয়মাবলী নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
1. ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের সামগ্রিক বাজেট বরাদ্দ
সর্বমোট বরাদ্দ: ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য সর্বমোট ৪৬,৭৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বিগত অর্থবছরের (৩৫,৪০৩ কোটি টাকা) তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।
1. খাতভিত্তিক বিদ্যালয় পর্যায়ের বরাদ্দ
জাতীয় বাজেট ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) সরাসরি বিদ্যালয়গুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু বরাদ্দ দেয়:
মেরামত ও সংস্কার (মাইনর মেরামত) বরাদ্দ: প্রতি অর্থবছরে নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে সাধারণত ২,০০,০০০/- (দুই লাখ) টাকা করে মাইনর মেরামত বরাদ্দ দেওয়া হয়।
রুটিন মেইনটেন্যান্স বরাদ্দ: চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোতে রুটিন সংস্কারের জন্য বিদ্যালয় প্রতি ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি সজ্জিতকরণ: প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের ক্লাসরুম আকর্ষণীয় করতে বিদ্যালয় প্রতি ৭,৬০০/- টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় (যেখান থেকে সরকারি ভ্যাট ও ট্যাক্স কর্তন করা হয়)।
বই পরিবহন ও বিতরণ বরাদ্দ: প্রতি বছর বিনামূল্যে পাঠ্যবই মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর পরিবহন খরচ বাবদ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সামগ্রিকভাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রাথমিক শিক্ষা পদক ও ক্রীড়া বরাদ্দ: প্রাথমিক শিক্ষা পদক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার জন্য দেশব্যাপী বিদ্যালয়গুলোর জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকার অধিক বিশেষ বরাদ্দ থাকে।
1. বরাদ্দ ব্যয়ের প্রধান খাত ও নির্দেশনাবলী (রুটিন ও মাইনর মেরামত)
বরাদ্দের অর্থ কোন কোন কাজে ব্যয় করা যাবে, তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সুনির্দিষ্ট করে দেয়:
অবকাঠামো: দরজা-জানালার লক, হাতল, গ্লাস, টাইলস সংস্কার এবং ছাদ পরিষ্কারকরণ।
বিদ্যুৎ ও পানি: লাইট, ফ্যান, সুইচ, রেগুলেটর, বৈদ্যুতিক বোর্ড, পানির কল, পানির পাম্প এবং মোটরের ছোটখাটো মেরামত।
স্যানিটেশন: ওয়াশ ব্লক ও টয়লেট পরিষ্কার এবং সংস্কার কাজ।
নিষ্কাশন: ড্রেন পরিষ্কারকরণ এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পাইপ মেরামত।
1. বরাদ্দ ব্যবহারের সরকারি শর্তাবলী ও জবাবদিহিতা
অনুমোদন: বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয়ের আগে অবশ্যই বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি (SMC) বা এডহক কমিটির সভায় প্রাক্কলন (Estimate) অনুমোদন করতে হবে।
তদারকি: মাইনর মেরামতের ক্ষেত্রে কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীর কাছ থেকে কাজের প্রাক্কলন প্রস্তুত করে উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।
সময়সীমা: সাধারণত চলতি অর্থবছরের নির্দিষ্ট তারিখের (যেমন ৩০ জুন) মধ্যে বরাদ্দের অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে ব্যয় করতে হয়।
অব্যয়িত অর্থ: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ব্যয় করতে না পারলে বা অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হয় এবং উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হয়।

