
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, মানুষের অধিকার ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেন সাংবাদিকরা। এ কারণেই সাংবাদিকতাকে সমাজের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকি, প্রতিকূলতা, মামলা-মোকাদ্দমা, হামলা, হুমকি এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
এমন মন্তব্য করেছেন দৈনিক জন জাগরণ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব হলো সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই এবং নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জনগণের সামনে তুলে ধরা। কিন্তু এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একজন সাংবাদিককে অনেক সময় নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, পারিবারিক স্বস্তি এবং এমনকি জীবনের ঝুঁকিও নিতে হয়।
মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকরা প্রতিদিন নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক সাংবাদিক দুর্নীতি, অপরাধ কিংবা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কারও বিরুদ্ধে করা হচ্ছে মিথ্যা মামলা, কেউ আবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রাণনাশের হুমকিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তারপরও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকে তারা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই দেশের মানুষ প্রকৃত ঘটনা, সামাজিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবগত হওয়ার সুযোগ পায়। গণতন্ত্র, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ একজন সাংবাদিক আহত বা নিহত হলে তার জন্য কার্যকর আইনি সুরক্ষা, আর্থিক নিরাপত্তা কিংবা পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য কোনো সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।
দৈনিক জনজাগরণ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন মনে করেন, সাংবাদিকদের জন্য একটি পৃথক ও কার্যকর সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা সময়ের দাবি। পাশাপাশি তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, ঝুঁকি ভাতা, অবসর-পরবর্তী পেনশন সুবিধা, জীবন বীমা এবং দুর্ঘটনা বীমাসহ একটি সমন্বিত কল্যাণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “একজন সাংবাদিক শুধু সংবাদ পরিবেশন করেন না; তিনি সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করেন। তাই একজন পেশাদার সাংবাদিককে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সামাজিক মর্যাদা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
মোঃ শিহাব উদ্দিন আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতা ছাড়া একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ এবং গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। সাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে তারা আরও সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের পাশে থেকে কাজ করে যাওয়া এই কলমযোদ্ধা মনে করেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং সময়ের অপরিহার্য দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার বিষয়টিকে গভীর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেনশন, বীমা এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

