
সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ স্থাপনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ শহরে একটি আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “ঝিনাইদহ জেলার উন্নয়ন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখব, তবে মেডিকেল কলেজ নয়।” তার এই বক্তব্যের পর জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এর আগে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে তিনি নিজ উপজেলা শৈলকুপায় যান। এরপর থেকেই মেডিকেল কলেজের স্থান নির্বাচন নিয়ে জেলার বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। জেলার সচেতন মহল ও আন্দোলনকারীদের দাবি, ঝিনাইদহ সদর জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এখানেই মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ সমানভাবে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষা সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, জেলার একপ্রান্তে অবস্থিত শৈলকুপায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে অধিকাংশ মানুষ ভৌগোলিকভাবে বঞ্চিত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে “আমরা ঝিনাইদহবাসী” ব্যানারে শহরের পায়রা চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল আলিম, সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, ডা. কামাল হোসেন, ডা. মনিরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবিরসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। এ দিকে একই সময় হরিনা কুন্ডু উপজেলাতেও মেডিকেল কলেজ সদরে স্থাপন করার দাবীতে ওই উপজেলার মানুষ মানববন্ধন করে।
মানববন্ধনে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, ঝিনাইদহ শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সদর হাসপাতালের বিদ্যমান জায়গাতেই মেডিকেল কলেজ করা সম্ভব। এছাড়াও আরও উপযুক্ত স্থান রয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, ঝিনাইদহের মন্ত্রী গোপালগঞ্জের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করছেন। সরকারদলীয় এমপি হিসেবে আপনারাই তো বলেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাহলে বাংলাদেশকে প্রাধান্য দেওয়ার আগে শৈলকুপাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কেন? তিনি আরও বলেন, ঝিনাইদহে একজন মন্ত্রী হওয়ায় আমরা আশাবাদী ছিলাম জেলার উন্নয়ন হবে। কিন্তু তিনি শুধু শৈলকুপার মন্ত্রী হয়ে পড়বেন, এটা আমরা ভাবিনি। তিনি ঝিনাইদহের গৌরব, দেশেরও গৌরব। কিন্তু মেডিকেল কলেজ ইস্যুতে তিনি ছোট মনের পরিচয় দিয়েছেন। গতকাল সংসদে আইনমন্ত্রীকে সামনে রেখেই আমি বিষয়টি উত্থাপন করেছি, কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি। এ সময় তিনি আইনমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি যেন তার অবস্থান থেকে সরে এসে ঝিনাইদহ শহরে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অন্যথায় ঝিনাইদহবাসী মেডিকেল কলেজ শহরে প্রতিষ্ঠার দাবিতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।
মানববন্ধনে অন্ন বক্তারা বলেন, ঝিনাইদহ সদর জেলার কেন্দ্রস্থল হওয়ায় এখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে জেলার সব উপজেলার মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা সুবিধা পাবে।

