
ইমরান হোসাইন, বাউফল (পটুয়াখালী) :
পটুয়াখালীর বাউফলে গুরুতর আঘাতের ঘটনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে “Simple Injury” উল্লেখ করে বিভ্রান্তিকর ও প্রতারণামূলক মেডিকেল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করা হয়েছে। পটুয়াখালীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আমলী আদালতে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৯৭, ১৯৮, ৪৬৫, ৪৬৮ ও ৪২০ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসাইন।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফাতেমা আক্তার (যুথি) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোঃ আব্দুর রউফকে।
আদালতে দায়ের করা নালিশী অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ পূর্বশত্রুতার জেরে শাহনাজ পারভীন নামের এক মহিলা তার হাতে থাকা ইট দিয়ে তার বোন মোসা: শাহানাজ পারভীনের মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তার মাথার খুলি ফেটে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে আহতের মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়।
বাদীর ভাষ্যমতে, গুরুতর আহত অবস্থায় মোসা: শাহানাজ পারভীনকে দ্রুত বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা আক্তার (যুথি) তার চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষা করেন। আহতের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি টানা ২২ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং এ সময় তীব্র মাথাব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা ও স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারানোর মতো জটিলতায় ভুগেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
নালিশীতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারা অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক যন্ত্রণা, গুরুতর আঘাত বা অক্ষমতাজনিত ক্ষতি “Grievous Hurt” হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাদী দুই চিকিৎসক পরস্পরের যোগসাজশে গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ ব্যাকডেট দিয়ে “Simple Injury” উল্লেখ করে একটি জাল মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন এবং সেটি অফিসার ইনচার্জ, বাউফল থানার কাছে প্রেরণ করেন।
বাদীর দাবি, উক্ত মেডিকেল রিপোর্টে রোগীর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে রিপোর্ট, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য নথিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর মাধ্যমে মামলার প্রকৃতি পরিবর্তন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনি সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাদীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতারণামূলক, বেআইনি এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৯৭, ১৯৮, ৪৬৫, ৪৬৮ ও ৪২০ ধারার আওতাভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতের কাছে অভিযোগ গ্রহণ করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

