
মুহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম
জীবনের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এক অসহায় কৃষক। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় কীটনাশক ট্যাবলেট সেবনের ঘটনায় নজরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) রাতের কোনো এক সময় তিনি কীটনাশক সেবন করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় স্বজনরা তাকে দ্রুত ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলার ৪ নম্বর ঘোড়াঘাট ইউনিয়নের তোষাই জোড়গাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি ছিলেন একজন পরিশ্রমী কৃষক। স্থানীয়দের কাছে তিনি শান্ত ও নিরীহ মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মফিদুল ইসলাম জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে নজরুল ইসলামের শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে স্বাভাবিক চলাফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে তার জন্য। দীর্ঘদিনের শারীরিক কষ্ট, কর্মক্ষমতা হারানোর বেদনা এবং মানসিক অস্থিরতা তাকে গভীরভাবে ভেঙে দেয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার পর কোনো এক সময় সবার অগোচরে তিনি কীটনাশক ট্যাবলেট সেবন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও অসহায়ত্বের জীবন তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একজন কৃষকের এমন করুণ বিদায় আবারও মনে করিয়ে দেয়—দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা শুধু শরীরকেই নয়, মানুষের মনকেও ক্ষতবিক্ষত করে। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত সহমর্মিতা ও মানসিক সহায়তা অনেক সময় এমন ট্র্যাজেডি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

