
কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার হোমনায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে মো. আবু রায়হান নামের এক স্থানীয় সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর, মুঠোফোন ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মদিনা চক্ষু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ভবনে সাংবাদিকের নিজস্ব কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক হোমনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আবু রায়হান দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি হোমনা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি, হোমনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠালগ্নের প্রচার সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) হোমনা উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সাংবাদিকতা, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছেন।
দীর্ঘ দেড় যুগের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের আবহে দেশে যখন বাক-স্বাধীনতা ও মুক্ত সাংবাদিকতা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ঠিক তখনই মফস্বলে সাংবাদিকের ওপর এমন হামলার ঘটনা স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
হোমনা থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪১ মিনিটে সাংবাদিক আবু রায়হান তাঁর কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সংবাদ প্রকাশ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্ত সেলিম মাস্টার, রনি মিয়া ও তাঁদের সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অফিসে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তাঁরা আবু রায়হানকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করেন। এ সময় সাংবাদিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও ভেঙে ফেলা হয়। চলে যাওয়ার সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংবাদ প্রত্যাহার অথবা প্রমাণ প্রদর্শনের আল্টিমেটাম দিয়ে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আবু রায়হান বলেন,
“জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করা আমার পেশাগত দায়িত্ব ও সাংবিধানিক অধিকার। কোনো সংবাদে কারও আপত্তি থাকলে আইনি প্রতিকারের পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু কার্যালয়ে এসে মারধর, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি শুধু আমার ওপর নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সেলিম মাস্টার ও রনি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে সংবাদ প্রকাশ নিয়ে তাঁদের ক্ষোভের কথা জানিয়ে বলেন,
“আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম, কোনো মারধর বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করতেই এই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।”
দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন একটি বৈষম্যহীন ও বাক-স্বাধীনতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তখন তৃণমূলের সাবেক ছাত্রনেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় সাংবাদিক মহল অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হুমকি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং মুক্ত গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপরও সরাসরি আঘাত।
হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

