নওগাঁ জেলার বৃহত্তর ও অন্যতম উপজেলা হলো পত্নীতলা। উপজেলার ১নং পত্নীতলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ও প্রতিবন্ধী দম্পত্তির পাশে দাড়ায়নি কোন বিত্তবান ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী কিংবা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন।
ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মহেশপুর বাজার ফুটবল মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নারে অন্যের জায়গায় গড়ে তোলা ঝুপড়ি ঘরে এই প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ দম্পতির বসবাস। মোহাম্মদ শামসুল মিয়া(৭২) এবং তার স্ত্রী তারা বানু(৬৫) নামের বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী এই দম্পতির কোন সন্তান নাই। অসহায়, হতদরিদ্র এবং ছিন্নমূল এই দম্পতির স্ত্রী তারা বানু ডান চোখে দেখে না কোনকিছু।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায় যে, শামসুল মিয়া আগে সেলুনের কাজ করতেন এবং তার স্ত্রী অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে তাদের সংসার চালাতেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই বৃদ্ধ দম্পতি ইচ্ছা সত্তেও এখন আর কাজ করতে পারেনা কিন্তু জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকা পর্যন্ত তাঁরা আজও লড়াই করে চলেছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই দম্পতির সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, সরকারি কোন আর্থিক অনুদান ও সেবা(বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, টিসিবি, ভিজিডি) তাঁরা পায় না। এই দম্পতি অভিযোগ করেন, অনুদানের খাতায় নাম দিতে হলে তার জন্য আলাদা টাকা লাগে যা তারা দিতে পারেনা বলে সরকারি বরাদ্দের বেশির ভাগ বরাদ্দই সমাজের সাবলল্বী মানুষ পায়। তারা এও বলেন যে, ভোট আসে ভোট যায় কিন্তু আমদের জন্য সরকারি কোন সেবা আসেনা বা পাইনা। সন্তানহীন বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী এই দুটো মানুষ আমরা কি খেয়ে বেঁচে থাকবো?
এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে এলাকাবাসী অনুরোধ জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি যে, তাঁরা যেনো এই ষাটোর্ধ প্রতিবন্ধী দম্পতিকে সরকারি কোন সেবার আওতায় নিয়ে আসে এবং সরকারি সেবা সমুহ যেনো প্রকৃত সেবা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরাই পায়।