
মোঃ হাসান আলী
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পৃথক দুটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ৭ জন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ। এ সময় মাদক গ্রহণের বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার সময় ধামইরহাট উপজেলার ১নং ধামইরহাট ইউনিয়নের বেনীদুয়ার খুলুপাড়া গ্রামে মোঃ মোজাহেদুলের পরিত্যক্ত মুরগির খামারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবস্থানরত ৩ জন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয় এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়।
এরপর একই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে উপজেলার ৬নং জাহানপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবট কলোনী এলাকার রুপনারায়নপুর গ্রামের বিনয় সিংয়ের ডিপ টিউবওয়েলের পাকা ঘরে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে আরও ৪ জন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করে।
এছাড়া জেলার পোরশা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন তদন্তপ্রাপ্ত এবং দুইজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিআর ১৫/২৬ (পোরশা) মামলার তদন্তপ্রাপ্ত আসামি মো. রাশেদুল ইসলাম (পিতা: মো. রফিকুল ইসলাম), গ্রাম নোনাহারকে গ্রেফতার করা হয়। জিআর ১৪০/২২ (পোরশা) মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সালাউদ্দিন (পিতা: মৃত আলাউদ্দিন), গ্রাম ধুনাডাঙ্গা এবং জিআর ১১৩/২২ (পোরশা) মামলার ১বছরের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামি হাসান মাহমুদ বাবু (পিতা: মৃত হারুন আর রশিদ), গ্রাম গাবিরাকুড়ি, পোরশাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সকলের বাড়ি জেলার পোরশা উপজেলায়।
অপর ১টি অভিযানে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মান্দা থানার একটি দল উপজেলার ৪ নম্বর মান্দা ইউনিয়নের কোচড়া বাদলঘাটা মৎস্যজীবী পাড়ার মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন মো. শাহিন আলমের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি গাঁজা সেবন করছিলেন বলে পুলিশ জানতে পারে। পরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১. মো. শাহিন আলম(৩৬)
২. মো. গোলাম রাব্বি(২০)
৩. মো. লিটন বাবু(১৭)
৪. মো. আরমান রানা(১৮)
৫. মো. আবু তাহের(২১)
৬. মো. মেহেদী হাসান(২৩)
পুলিশ জানায়, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করেছেন। এ সময় মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণও জব্দ করা হয়।
জেলার পৃথক-পৃথক ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুত্রে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আসামীদেরকে কোর্টে চালান করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জননিরাপত্তা ও মাদকদ্রব্যের বিস্তার এবং সেবন রোধে এমন বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

