
আল মুজাহিদ-(যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছা উপজেলার এক কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত আনিসা খাতুন উপজেলার দুলালপুর গ্রামের আব্বাস আলীর মেয়ে। তিনি যশোর এমএম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, উপজেলার পেটভরা গ্রামের আব্দুল মাজিদের ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গে গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে আনিসার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় কাবিননামা বাবদ চার লাখ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার দেওয়ার শর্ত নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা, স্বর্ণালংকার, শাড়ি, প্রসাধনী ও অন্যান্য খাতে প্রায় ১২ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় করা হয়।
মেহেদী হাসানের পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রায় দুই সপ্তাহ পর পরীক্ষার অজুহাতে আনিসা বাবার বাড়িতে চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর একাধিকবার যোগাযোগ এবং পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেননি।
এ ঘটনায় মেহেদী হাসান চৌগাছা থানায় এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (এনপিএস)-এর কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৩ জুন) সকালে চৌগাছা থানায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মেয়ারাজ উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির দাবি, আলোচনার একপর্যায়ে আনিসা কাবিননামার অর্থ ও কিছু স্বর্ণালংকারের বিষয়ে বক্তব্য দেন। তবে আনিসার বাবা আব্বাস আলী ও মা শাহানাজ পারভীন তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাদের মেয়ে ইতোমধ্যে মেহেদী হাসানকে তালাক দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে আর কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক রাখতে চান না।
সালিশ বৈঠকে মেহেদীর বাবা আব্দুল মাজিদ, মামা আয়ুব হোসেন, নেসার উদ্দীন বিশ্বাস, আনিসার চাচা মোদাচ্ছের হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত আনিসার বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল পটুয়াখালীতে রাসেল নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রতারণামূলক বিয়ে করে তিন লাখ টাকা কাবিন এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে উল্লেখ্য, আনিসা খাতুনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

