
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল-ঢাকা মহাসড়কে বাস চলাচল কমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাস মালিকদের নতুন ব্যবস্থাপনা ও ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউফল-ঢাকা রুটে আগে মুন পরিবহন, অন্তরা পরিবহন, চেয়ারম্যান পরিবহন, ইসলাম পরিবহন, সাকুরা পরিবহন, বাউফল ট্রাভেলস ও কিংস পরিবহনসহ বিভিন্ন ব্যানারে প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বাস চলাচল করত। তবে সম্প্রতি পরিবহন মালিকদের নতুন সিদ্ধান্তের পর বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বর্তমানে বাসের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় বাউফল ও বগা ফেরিঘাট এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সিট না পেয়ে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে অথবা টুলে বসে ঢাকা যেতে হচ্ছে। এছাড়া আগের তুলনায় ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি তাদের।
শনিবার (১৪ জুন) বগা ফেরিঘাট এলাকায় অপেক্ষমাণ যাত্রী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “সকাল ৯টা থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। দুপুর হয়ে গেলেও কোনো বাস পাইনি। আগে সহজেই বাস পাওয়া যেত, এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। অথচ ভাড়াও বেড়ে গেছে।”
আরেক যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, “দাঁড়িয়ে গেলেও ৬০০ টাকা, বসে গেলেও ৬০০ টাকা। যাত্রীদের কষ্টের কথা কেউ ভাবছে না।”
ঢাকাগামী যাত্রী কামরুল হাসান বলেন, “গাড়ি কমিয়ে দেওয়ায় সিট পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। বাসের সংখ্যা বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো।”
এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, লোকসানের কারণে বাস পরিচালনায় নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দশমিনা এক্সপ্রেসের বগা কাউন্টারের কর্মচারী মামুন জানান, মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যানারের বাস একত্রে পরিচালিত হচ্ছে এবং ট্রিপ সংখ্যা কমানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবহন মালিক মো. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা নতুন একটি পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আগে প্রায় ৭০টি বাস চলাচল করলেও বর্তমানে ৩৮টি বাস চলাচল করছে। পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।”
তবে যাত্রীদের দাবি, বাসের সংখ্যা কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করে দ্রুত পর্যাপ্ত বাস চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারেন।

