
সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মীর ফারুক (৪০) নামের এক রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। শনিবার (১৩ জুন) সকালে কালীগঞ্জ শহরের মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মীর ফারুক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে বর্তমানে কালীগঞ্জ শহরের মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে মীর ফারুক তার পাশের রুমের প্রতিবেশী এক ১২ (বারো) বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শনিবার সকালে ভুক্তভোগী শিশু বিষয়টি তার মাকে জানালে প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত ফারুককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে।
এদিকে ফারুকের আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে নিজের কন্যা সন্তানকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলেন তার স্ত্রী ও মেয়ে। অভিযুক্তের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে তার স্বামী মীর ফারুক তার মেয়েকে নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শ্লীলতাহানির বিষয়টি যেন কাউকে না জানানো হয়, সেই শর্তে মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে সে। পরবর্তীতে আজ মেয়ে আমার কাছে ঘটনা বিস্তারিত খুলে বলে।
ফারুকের শিশু কন্যা বলে, আমি এক রুমেই বাবা-মায়ের সাথে থাকি। একদিন রাতে আমি বাবা মায়ের মাঝে ঘুমিয়ে ছিলাম, সেদিন রাতে আব্বু আমার সাথে খারাপ কাজ করে। পরে ভোরে উঠে চলে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলে এ কথা কাউকে বললে মেরে ফেলা হবে। ভয়ে আমি কাউকে কিছু বলিনি। কিন্তু আব্বু মাঝে মাঝেই আমার সাথে এমন করতো। আমাকে নদীর পাড়ে নিয়ে ভয় দেখিয়ে বলে কাউকে কিছু বললে মেরে ফেলবো।
কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত মীর ফারুককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।
ঝিনাইদহের দায়িত্বরত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, অভিযুক্ত রিকশা চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিবেশী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, শুনেছি রিকসা চালক ফারুকের বিরুদ্ধে নিজ কন্যা সন্তানকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ তুলেছে তার স্ত্রী ও সন্তান । তবে রিকশা চালকের স্ত্রী কোন মামলা বরবেন না বলে জানিয়েছেন।

